অ্যান্ড্রয়েড ফোনের জন্য সেরা ৫ টি অ্যান্টিভাইরাস ও সিকিউরিটি অ্যাপ

- বিজ্ঞাপন -

মোবাইলে অ্যান্টিভাইরাস বা কোন সিকিউরিটি অ্যাপ! ব্যাপারটি অনেকের কাছেই খটকা লাগতে পারে। কিন্তু জেনে রাখা ভালো, দুষ্কৃতিকারীরা পিসির পাশাপাশি এখন মোবাইল অপারেটিং সিস্টেমকে টার্গেট করে বানাচ্ছে বিভিন্ন ম্যালওয়ার, স্পাইওয়ার, অ্যাডওয়ার বা জাঙ্কওয়ারের মত বিভিন্ন ভাইরাস। উইন্ডোজ মোবাইল ও আইওএস কিছুটা নিরাপদ থাকলেও অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা নিজেদের নিরাপদ ভাবতে পারবেন না। ভাবাটাও বোকামি। আর এই কারনে গুগল প্লে স্টোরে সিকিউরিটি অ্যাপ বা অ্যান্টিভাইরাস গুলোর কদর দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে।

কেন আপনার সিকিউরিটি অ্যাপ ব্যবহার করা উচিতঃ

বিভিন্ন বাংলা ও ইংরেজি ব্লগে আমি দেখেছি কেউ কেউ মোবাইলে অ্যান্টিভাইরাস ব্যাবহারকে ভোগাস বা অহেতুক বলে বিবেচনা করছেন। যার সাথে আমি কখনই একমত না। হয়তো অনেকেই আপনাকে বলতে পারে এই অ্যাপগুলো মোবাইল স্লো করে ফেলে আর এগুলো তেমন কাজও করে না। যে যাই বলুক, আপনার স্মার্টফোনের সুরক্ষার জন্য আপনার একটি অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করা জরুরী। চলুন জেনেনেই এর কারন গুলোঃ

  • আপনার মোবাইলে ইন্সটল হওার আগে ম্যালিশিয়াস এপিকে ব্লক করার জন্য।
  • অনেক সময় মোবাইলে অকারনে বিরক্তিকর কিছু বিজ্ঞাপন দেখা যায় যা ২ দিন আগেও ছিলোনা। এগুলোকে অ্যাডওয়ার বলে। এই অ্যাডওয়ার ব্লক করতে অ্যান্টিভাইরাস দরকার।
  • কিছু কমন ম্যালওয়ার ও স্পাইওয়ার আছে যা ব্যবহারকারীর তথ্য হ্যাকারের কাছে পাচার করতে ওস্তাদ। ওগুলোকে খুজে বেড় করে মুছে ফেলার জন্য আপনার স্মার্টফোনে থাকা চাই একটি ভালোমানের অ্যান্টিভাইরাস অ্যাপ।
  • অ্যান্টি-থেফট এমন একটি ফিচার যার সাহায্যে হারিয়ে বা চুরি যাওয়া ফোনের হদিস মিলতে পারে। এমনকি চোরের ছবিও দেখার সম্ভাবনা থাকে এর মাধ্যমে। আর এই ফিচারটি মডার্ন মোবাইল অ্যান্টিভাইরাসগুলোতে বিল্টইন থাকে।
  • এছারা ভালো অ্যান্টিভাইরাস অ্যাপ গুলোতে মোবাইলের পারফর্মেন্স বুস্ট ও ব্যাটারি লাইফ সেভ করার জন্য বিভিন্য বিল্টইন ফিচার যুক্ত থাকে। যা আপনার অনেক কাজে আসতে পারে।

এভাবে হাজারটা কারন খুজে বের করা যাবে। কিন্তু আমি সাজেশন দিবো, আপনি যদি মোবাইলে বিভিন্ন অ্যাপ পারচেজ করে থাকেন অর্থাৎ আপনার গুগল অ্যাকাউন্টে যদি ক্রেডিট কার্ড বা পেপাল অ্যাকাউন্ট যুক্ত থাকে, তাহলে অবশ্যই একটি পেইড অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করুন।

অ্যান্ড্রয়েড ফোনের জন্য সেরা ৫ টি অ্যান্টিভাইরাস অ্যাপসঃ

প্লে স্টোরে অনেক ফ্রি ও পেইড অ্যান্টিভাইরাস পাওয়া যায়। যার মাঝে সবচেয়ে ভালো অ্যাপ গুলো হল –

১। বিটডিফেন্ডার (Bitdefender):

- বিজ্ঞাপন -

বিটডিফেন্ডার হল সবচেয়ে ভালো অ্যান্টিভাইরাসগুলোর মাঝে একটি। পিসির পাসাপাশি মোবাইলেও এটি বেশ ভালো পারফর্ম করতে পারে। ২০১৫ ও ২০১৬ এ এটি বেশ কয়েকটি এওয়ার্ডও পায়। ম্যালওয়ার ধরার জন্য এটি বেশ ভালো কাজ করে। অ্যান্ড্রয়েডের জন্য এর ফ্রি ও পেইড ভার্শন রয়েছে। পূর্ণ সিকিউরিটির জন্য এর পেইড ভার্শনটি ব্যবহার করতে পারেন। এর কোর ফিচারগুলো হল-

  • প্রাইভেসি এডভাইজর (Privacy Advisor) – সন্দেহজনক অ্যাপ (যে অ্যাপগুলো আপনার তথ্য পাচার করতে পারে) গুলো ধরিয়ে দিবে এই ফিচার।
  • ওয়েব সিকিউরিটি (Web Security) – গুগল ক্রোম ও ডিফল্ট অ্যান্ড্রয়েড ব্রাইউজারে সিকিউরিটি দিবে এবং আপনার ওয়েব ব্রাউজিংকে নিরাপদ করবে।
  • অ্যান্টি-থেফট  (Anti-Theft) – মোবাইল হারিয়ে গেলে বা চুরি হলে সম্ভাব্য লোকেশন জানা ও মোবাইল থেকে আপনার সমস্ত গোপন ডাটা মুছে ফেলে তা লক করে দেয়া যাবে এই ফিচারের জন্য।
  • অ্যাপ লক (App Lock) – অ্যাপ গুলকে কোন পিন নাম্বার দিয়ে লক করে রাখা যাবে।
  • ওয়ার-অন (WearON) – স্মার্টওয়াচেও সিকিউরিটি দিবে।

সাবস্ক্রিপশন ফিঃ ফ্রি ও ১৪.৯৫ ইউএস ডলার/বছর।

প্লে স্টোর লিঙ্কঃ https://play.google.com/store/apps/details?id=com.bitdefender.security

২।এভিজি (AVG):

বিটডিফেন্ডারের মত এরও ফ্রি ও পেইড ভার্সন রয়েছে। তবে এর ফ্রি ভার্শনটিও বেশ কাজের। অনেক পেইড ফিচার রয়েছে এতে। তবে ফ্রি ভার্শনে ব্যানার বিজ্ঞাপন থাকবে যা আপনার কোন সমস্যা করবে না। আর এর পেইড ভার্শনে কোন বিজ্ঞাপন থাকবে না। এভিজি ক্লিনার ইন্সটল করা থাকলে এই অ্যান্টিভাইরাসটি থেকে মোবাইলের পারফর্মেন্স ও ব্যাটারি লাইফ এক্সট্যান্ড করা যাবে। সাথে আরও অনেক কিছুই করা যাবে যা অনেক অ্যাপেই থাকে না। ব্যাক্তিগত ভাবে আমি এর পেইড ভার্শনটি ব্যাবহার করতেছি। এর কোর ফিচার গুলো হলঃ

  • বিটডিফেন্ডারের সকল ফিচার।
  • অ্যান্টি-থেফট  (Anti-Theft) – মোবাইল হারিয়ে গেলে বা চুরি হলে সম্ভাব্য লোকেশন জানার পাশাপাশি এর সাহায্যে চোরের ছবি দেখারও সুযোগ রয়েছে। এছারা মোবাইল থেকে আপনার সমস্ত গোপন ডাটা মুছে ফেলে তা লক করেও দিতে পারবেন।
  • পারফর্মেন্স (Performance): মোবাইলের ব্যাটারি লাইফ ও পারফর্মেন্স বুস্ট ছাড়াও এতে রয়েছে টাস্ক কিলার ও মোবাইল ডাটার হিসাব রাখার সুবিধা। এছারাও এর সাহায্যে যেকোনো অ্যাপকে মোবাইল মেমরি থেকে এসডি কার্ডে ত্রান্সফার করা যাবে।
  • কল ও এসএমএস ব্লক।

সাবস্ক্রিপশন ফিঃ ফ্রি ও ৭.৩১ ইউএস ডলার/আজিবন।

প্লে স্টোর লিঙ্কঃ https://play.google.com/store/apps/details?id=org.antivirus

৩। ক্যাসপারস্কি (Kaspersky):

ভাইরাস স্ক্যানে যথেষ্ট পটু এই আপটি। এর সাহায্যে আপনার মোবাইল থাকবে নিরাপদ। এর কোর ফিচারগুলো হল-

  • বিটডিফেন্ডারের সকল ফিচার।
  • অ্যান্টি-থেফট  (Anti-Theft)।

সাবস্ক্রিপশন ফিঃ ১৪.৯৯ ইউএস ডলার/বছর।

প্লে স্টোর লিঙ্কঃ https://play.google.com/store/apps/details?id=com.kms.free

৪। অ্যাভাস্ট (Avast):

সবচাইতে বেশি ফিচার রয়েছে অ্যাভাস্ট অ্যান্টিভাইরাস আপটিতে। কিন্তু এটি সম্পূর্ণ ফ্রি। কোন পেইড অপশন নেই। উপরের অ্যান্টিভাইরাস গুলোর সব ফিচারই রয়েছে এতে। তারপরেও ৪ নম্বর অবস্থানে থাকতে হচ্ছে শুধু মাত্র পেইড (এড ফ্রি) ভার্শন না থাকার জন্য। আমার মত অনেকেই অ্যাপে বিজ্ঞাপন পছন্দ করেননা। যাইহোক এতে রয়েছেঃ

  • সব প্রিমিউয়াম ফিচার যা আপনার দরকার।

সাবস্ক্রিপশন ফিঃ ফ্রি।

প্লে স্টোর লিঙ্কঃ https://play.google.com/store/apps/details?id=com.avast.android.mobilesecurity

৫। ৩৬০ সিকিউরিটি (360 Security):

অ্যাভাস্ট অ্যান্টিভাইরাসের মতও এটিও অল ইন ওয়ান। কিন্তু এর কোন পেইড ভার্শন নেই। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি অ্যান্টিভাইরাস।

সাবস্ক্রিপশন ফিঃ ফ্রি।

প্লে স্টোর লিঙ্কঃ https://play.google.com/store/apps/details?id=com.qihoo.security

শেষ কথাঃ

উপরের অ্যান্টিভাইরাস গুলোর সব গুলই অনেক ভালো। আপনি যদি সিকিউরিটি নিয়ে খুব বেশি সিরিয়াস হোন, তাহলে বল্ব পেইড ভার্শন ব্যবহার করুন। আপনার যদি ওরকম সুযোগ না থাকে তাহলে ফ্রি ভার্শন গুলো ব্যবহার করতে পারেন।

Featured Image Source: techpave.com

- বিজ্ঞাপন -

1 COMMENT