টরেন্ট ডাউনলোড আপনার জন্য কতটুকু নিরাপদ ও বৈধ!

আসসালামুআলাইকুম।আশা করি সবাই ভালো আছেন। আজ আমি টরেন্ট নিয়ে আলোচনার জন্য এসেছি। আশা করি আজকের লেখাটি আপনাদের টরেন্ট সম্বন্ধে যাদের ধারণা আছে এবং যারা টরেন্ট সম্পর্কে নিতান্তই অজ্ঞ তাদের সকলেরই উপকারে আসবে।

টরেন্ট (Torrent) কি

টরেন্ট ডাউনলোড

অনলাইনে যেকোনো ধরনের ফাইল, সফটওয়্যার, গান, নাটক, সিনেমা, গেম ইত্যাদি ডাউনলোড করার ক্ষেত্রে টরেন্টের জুড়ি নেই। বর্তমান ভার্চুয়াল জগতে ফাইল শেয়ারিং-এর অন্যতম একটি প্রোটোকল বা মাধ্যম হচ্ছে টরেন্ট। কম্পিউটার প্রোগ্রামার ব্রাম কোহেন BitTorrent-এর প্রোটোকল ডিজাইন করেন ২০০১ সালের এপ্রিলে।

টরেন্ট (Torrent) যেভাবে কাজ করে

টরেন্টের আলাদা ফাইল সংরক্ষণের কোন সার্ভার নেই। তাই টরেন্টের ফাইলগুলো বিভিন্নভাগে অনেকগুলো কম্পিউটারে জমা থাকে। এখন সেই ফাইলগুলো P2P নেটওয়ার্কের মাধ্যমে টরেন্ট প্রোটোকল ব্যবহার করে ডাউনলোড করা হয়। উদাহরণ দিলে বিষয়টা পুরোপুরি পরিষ্কার হবে।
ধরা যাক, কোন সিনেমা অনলাইন থেকে টরেন্টের মাধ্যমে নামাতে হবে। প্রথমে একটি টরেন্ট সাইটে গিয়ে সিনেমার নাম সার্চ করে ছোট একটি টরেন্ট ফাইল(ধরলাম ২এমবি) .torrent ডাউনলোড করতে হবে এবং μTorrent-এর মাধ্যমে পুরো ২ জিবির সিনেমাটি ডাউনলোড করতে হবে। এখানে আসলে সিনেমাটি অনেকজনের কম্পিউটারের হার্ড ডিস্ক ড্রাইভে আছে। তারা সবাই তাদের সেই সিনেমার লিঙ্কটি টরেন্টের মাধ্যমে অনলাইনে শেয়ার করেছে। এবার সেটি প্রেরণ কিংবা গ্রহণের জন্য BitTorrent client ব্যবহার করতে হয় যেমনঃ μTorrent, Xunlei, Transmission, qBittorrent, Vuze, Deluge এবং BitComet যা এই টরেন্ট প্রটোকলটিকে বাস্তবায়ন করে। এই μTorrent-এর মাধ্যমে আসলে আমরা সিনেমা সংশ্লিষ্ট ফাইলের direction ডাউনলোড করা হয়। তার মানে এই টরেন্ট ফাইলটি হচ্ছে আসলে একটি tracker লিস্ট ও কিছু হ্যাশ কোড। অতঃপর পুরো ২ জিবি ফাইলটি মাত্র ২ এমবি টরেন্ট ফাইলের মাধ্যমে p2p নেটওয়ার্কের মধ্য দিয়ে একবারে খুব সহজে ডাউনলোড করা হয়। সহজ ভাষায় টরেন্ট এভাবেই কাজ করে।

bittorrent

টরেন্ট যেভাবে কাজ করে তার একটি নমুনা চিত্র

টরেন্ট কি বৈধ নাকি আইনগতভাবে নিষিদ্ধ?

আর দেড়ি না করে চলুন জেনে নেই টরেন্ট ডাউনলোড আমাদের জন্য কতটুকু নিরাপদ ও এর বৈধতা কতটুকু।

টরেন্টের মাধ্যমে কি Intellectual Property Rights এবং Copyright লঙ্ঘিত হওয়া সম্ভব

হ্যাঁ সম্ভব এবং হচ্ছেও। তবে আমরা এটা বলতে পারিনা যে টরেন্ট নিজেই অবৈধ। টরেন্টে প্রচুর Copyright ফাইল,মুভি,গান ইত্যাদি পাওয়া যায়। তাই সেক্ষেত্রে কারো মেধা সম্পত্তি অধিকার খর্বিত হতেই পারে। এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ হচ্ছে KickassTorrents। সম্প্রতি এর প্রতিষ্ঠাতাকে পোল্যান্ড থেকে বিভিন্ন অভিযোগে(Google’s unwanted software policy, Copyright law violation ইত্যাদি) গ্রেফাতার করা হয় এবং ডোমেইন বাজেয়াপ্ত করা হয়। এর আগে বিভিন্ন সময় যেমন ২০১৪ সালের জুন মাসে মালায়শিয়াতে Malaysian Communications and Multimedia Commission কর্তৃক সাইটটি ব্লক করে দেয়া হয়। এ ধরনের অভিযোগ শুধু KickassTorrents-এর একার নয়, The Pirate Bay-এর বিরুদ্ধেও ছিল এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে সেসময় জেলেও যেতে হয়েছে। এসব বিবেচনায় বিশ্বের অনেক দেশেই টরেন্ট নিষিদ্ধ।

টরেন্টের প্রাইভেসি

আসলে টরেন্ট নেটওয়ার্কে ফাইল আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে আপনি একদম অজ্ঞাতনামা হিসেবে কাজ করেন। ধরুন আপনি সরাসরি একটি ফাইল Microsoft-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে নামাবেন তবে সেক্ষেত্রে আপনাকে তাদের কেন্দ্রীয় সার্ভার থেকেই ডাউনলোড হবে। এখন মাইক্রোসফটের সার্ভারে প্রমান থাকবে যে আপনি সেই ফাইলের সমগ্র বিষয়বস্তু ডাউনলোড করেছিলেন।
কিন্তু টরেন্টের মাধ্যমে আপনি সেই ফাইলের অবস্থানকে(location) ডাউনলোড করতে হবে। এটা সত্যিই প্রমাণ করে না যে আপনি টরেন্ট ফাইল থেকে ডাউনলোড করেছেন। আপনি টরেন্ট ক্লায়েন্টের মধ্য দিয়ে কি করেন তা বেশ গুরুত্বপূর্ণ এবং টরেন্টের এই পুরো ঘটনাটি বিকেন্দ্রীভূত সার্ভারের তালিকা থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। একদা যখন আপনি প্রকৃত ফাইলটি ডাউনলোড করা করবেন সেটি আসলে টুকরো টুকরো আকারে বিভিন্ন কম্পিউটার থেকে ডাউনলোড করা হয়।

টরেন্টের আইনগত বা অবৈধ ব্যাপারগুলো কি রকম

সহজ কথায়, আপনি যে জিনিসের স্বত্বাধিকারী নন অথচ তা কপিরাইট সংরক্ষিত, সেটা ফ্রিতে টরেন্টের মাধ্যমে ডাউনলোড দেয়া মোটেই বৈধ হবেনা।
তবে এর বিভিন্ন তারতম্য হতে পারে। মেধাস্বত্ব চুরির জন্য বিশ্বের বেশিরভাগ দেশেরই মৌলিক সাধারণ আইন থাকে।  যদি কোন গান কিংবা সিনেমাতে কপিরাইট দেয়া থাকে এবং তার স্বত্বাধিকারী যদি আপনি না হন অথবা মেধাস্বত্ব কিনে না থাকেন তাহলে সেই গান, নাটক কিংবা সিনেমা অনলাইনে আপনি আইনত ডাউনলোড করতে পারেন না। ইহা সফটওয়্যার, গেম কিংবা অন্য কোন ফাইল ইত্যাদির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
তবে যদি আপনি ফ্রি লিনাক্স ডিস্ট্রিবিউশনের কোন কিছু ডাউনলোড করতে চান টরেন্ট ক্লাইন্টের মাধ্যমে, সেটি বৈধ। এরকম অনেক গান, নাটক, সিনেমা, সফটওয়্যার, গেম ইত্যাদি আছে যেগুলোর কোন কপিরাইট কিংবা মেধা সম্পত্তি অধিকার দেয়া নেই সেগুলো ডাউনলোড করতে কোন বাঁধা নেই।

শেষকথা

এটা সত্য যে টরেন্ট মানেই পাইরেসি নয়। টরেন্ট প্রটোকলের মাধ্যমে এর ব্যবহারকারীরা খুব সহজেই ফাইল ডাউনলোড করতে পারে। তাই এর কন্টেন্টগুলো হয়ত নিষিদ্ধ হতে পারে কিন্তু এই প্রটোকল/মাধ্যমটি এখন পর্যন্ত সারা বিশ্বে একযোগে নিষিদ্ধ নয়। তাই টরেন্টে ডাউনলোড করার সময় অনেক ক্ষেত্রে এটা বুঝার উপায় থাকেনা যে আসলে যা ডাউনলোড করা হচ্ছে তাতে কপিরাইট করা আছে কিনা। এমনও হতে পারে আপনি যা ডাউনলোড করছেন টরেন্টের মাধ্যমে তা আপনার দেশের আইনে বৈধ নয়!  কাজেই কপিরাইট/মেধাস্বত্ব দেয়া ফাইল/গেম/মুভি ইত্যাদি শেয়ার কিংবা ডাউনলোড না করাই উত্তম। এতে আইনী জটিলতায় পরতে হতে পারে। টরেন্টকে ভাল কাজে ব্যবহার করা সকল ব্যবহারকারীদের দায়িত্ব। যদিও আজকাল বিভিন্ন সফটওয়্যারের ক্র্যাক/প্যাচ, মুভি রিলিজের দিনই সেই মুভি টরেন্টে চলে আসা এবং কপিরাইটকৃত ভিডিও বেশি ডাউনলোড করা হয়ে থাকে যা কাম্য ছিলনা। যাওয়ার আগে একটু কিকএস টরেন্ট থেকে ঘুরে আসতে পারেন।http://www.kickass.to/

নিরাপদে থাকবেন। ধন্যবাদ সবাইকে।

স্পেশাল থ্যাংকস টু গুগল.কম