এসইও করার সময় আপনি মনের অজান্তে যে ভুল গুলো করছেন

- বিজ্ঞাপন -

এসইও শব্দটির সাথে আমরা মত অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টরা মোটামুটি ভালো ভাবেই পরিচিত। বলতে পারেন অনলাইন জগতে বিশেষ করে ওয়েবসাইট এডমিনদের কাছে এসইও একটি অতি পরিচিত শব্দ। যারা সত্যিকার অর্থে এক্সপার্ট তারাতো আমার থেকে এসইও সম্পর্কে অনেক বেশিই জানে। কিন্তু যারা একেবারেই নতুন তারা এসইও করার সময় কিছু ভুল তাদের মনের অজান্তেই করে ফেলে। শুধু নতুনরা নয়। যারা মোটামুটি এসইও সম্পর্কে জানে তারাও কিছু ভুলে করে ফেলে। নতুন হোক বা পুরাতন হোক ভুল গুলো কিন্তু একই রকমের। মুলত ঐ এসইও মিস্টেক গুলো নিয়েই আজ আমি আলোচনা করবো। আজ আপনাদেরকে পরিচয় করিয়ে দিব ৫ টি এসইও মিস্টেকের সাথে। যা সবারই জেনে রাখা উচিত।

৫ টি এসইও মিস্টেকঃ

১। এঙ্কর টেক্সট অপটিমাইজেশন-

এসইওর জগতে এঙ্কর টেক্সট অপটিমাইজেশন একটি অতি কার্যকরী টেকনিক ছিল যতদিন না গুগল তাদের পলেসি আপডেট না করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে এঙ্কর টেক্সট অপটিমাইজেশনের উপর গুগল কিছু নিয়ম জারি করেছে। অতি মাত্রায় এঙ্কর টেক্সট অপটিমাইজেশন ভালর চেয়ে খারাপ কিছুই বয়ে নিয়ে আসতে পারে। আপনি আপনার আর্টিকেলে ১ টি বা ২ টি এঙ্কর টেক্সট রাখতে পারেন। কিন্তু অবশই একই লিঙ্ক এর হতে পারবে না। আর গুগল এঙ্কর টেক্সট নিয়ে কি বলছে সেটা আপনি গুগলের ওয়েবসাইট থেকেই জেনে নিতে পারেন http://goo.gl/sAkkmL এখান থেকে।

২। স্পামি গেস্ট ব্লগিংঃ

এটি একটি মারাক্তক এসইও মিস্টেক। আপনি একই আর্টিকেল বিভিন্ন ওয়েবসাইটে দিয়ে রেফারেন্স হিসেবে আপনার ওয়েবসাইটের লিঙ্ক দিয়ে দিলেন। কিন্তু একবার কি ভেবে দেখেছেন ব্যাপারটা কি স্পামের পর্যায় যাচ্ছে না? এখন যদি উদাহরণ হিসেবে কিছু দেখতে চান তাহলে আপনাদের চোখের সামনেই অনেক গেস্ট আর্টিকেল গুলোর দিকে তাকান। বিশেষ করে- টিউনারপাতা, টেকটিউন্স বা টিউনারপেইজে যে কেউ রেজিস্ট্রেশান করে ব্লগিং করতে পারে। কিন্তু অনেক আর্টিকেল দেখবেন যার সেই অর্থে কোন কোয়ালিটিই নেই। ১৫০-২০০ শব্দের মধ্যে একটি আর্টিকেল পোস্ট করে সাথে তার ওয়েবসাইটের লিঙ্ক দিয়ে দিচ্ছে। এটা অবশ্যই ভালো লক্ষন না। এই আর্টিকেল গুলোর বেশির ভাগই হুবুহু কপি পেস্ট করা। অর্থাৎ ডুপ্লিকেট কন্টেন্ট। আর অতি মাত্রায় এসবের কারণে আপনার ওয়েবসাইটের উপর খারাপ কিছু ঘটতে পারে। যেমন গুগল সার্চে আপনার ওয়েবসাইট না আসা ইত্যাদি।

৩। নিম্নমানের ব্যাকলিঙ্কঃ

আপনার ওয়েবসাইট আছে। আপনি এর হাজারো ব্যাকলিঙ্ক বানালেন। লাভ নাই! গুনে দেখুন আপনি যে সমস্ত ওয়েবসাইটে ব্যাকলিঙ্ক করেছেন তার মধ্যে কয়টার ডিএ রেঙ্ক ২০ এর উপরে। শুধু ডিএ নয়, পিএ রেঙ্কও একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। হাজারো ব্যাকলিঙ্ক না করে ১০ টি হাই কোয়ালিটি ব্যাকলিঙ্ক করুন। নিম্নমানের ব্যাকলিঙ্ক এর পরিমাণ বেশি হলে গুগল সার্চ থেকে আপনার সাইট দেখা যাবেনা বললেই চলে। এমনকি ব্যানও খেতে পারেন গুগল থেকে। তাই ব্যাকলিঙ্ক করার আগে অবশই সাবধান হন।

৪। ফোকাস কিওয়ার্ড এর আধিক্যঃ

- বিজ্ঞাপন -

এটি আরও একটি মারাক্তক ভুল। অনেকে আর্টিকেল লিখে ভালো কিন্তু তাতে যে কোন একটি শব্দের এতো পরিমাণ আধিক্য থাকে যা পড়লে মনে হবেনা এটা কোন মানুষ লিখেছে। ব্যাপারটা অনেকটা এরকম কিওয়ার্ড ডেনসিটি বাড়ানোর জন্য কেউ আদাজল খেয়ে নেমেছে অথবা আর্টিকেল টা কোন জকার অথবা কোন রোবট লিখেছে। অবশ্যই আপনার কিওয়ার্ড ডেনসিটি ১ থেকে ৪.৫ % এর মধ্যে রাখুন। এর বেশি হলে লাভের চেয়ে উলটো ক্ষতিই বেশি হবে।

আরও একটি ভুল হল বড় কিওয়ার্ড নির্বাচন করা এবং সেই কিওয়ার্ড এর আধিক্য। অবশ্যই বিষয় গুলো মাথায় রাখুন।

৫। অতিরিক্ত ফ্ল্যাশ কন্টেন্টঃ

এটিও অনেক কমন একটি ভুল। অবশ্যই আপনার ওয়েবসাইটে যথা সম্ভব ফ্ল্যাশ কন্টেন্ট কম রাখার চেষ্টা করুন। আরেকটা বিষয় হল লেখা আর ইমেজের মাঝে সামঞ্জস্য রাখুন। এরকম কিছু করবেন না যাতে মনে হয় লেখার চেয়ে ইমেজের পরিমাণ বেশি।

আসা করি আপনারা এই ৫ টি এসইও মিস্টেক এরপর থেকে আর করবেন না। কারও কোন প্রশ্ন থাকলে কমেন্টে জানান।

সুত্রঃ www.xtremerain.com

- বিজ্ঞাপন -